মেজর সিনহা হত্যাকারীদের শাস্তি হোক বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত! -অ আ আবীর আকাশ-
আগস্ট ১৩, ২০২০, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ

মেজর সিনহা হত্যাকারীদের শাস্তি হোক বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!

-অ আ আবীর আকাশ-

তুমুল আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যার মাধ্যমে ওসি প্রদীপের মানুষ হত্যার মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। ওসি হয়ে এসপির মদদে, স্থানীয় আইনজীবীর আইনি সহায়তার মাধ্যমে যে হারে মানুষ হত্যা করেছে প্রদীপ, তা গণমাধ্যমে দেখে শুনে পড়ে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাওয়ার মত কাহিনীর জন্ম দিয়েছে সে। এতটাই বেপরোয়া ছিল ওসি প্রদীপ পাশের উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আক্তারকে রাতের আঁধারে অপকর্ম তথা মানুষ হত্যার কাজে ব্যবহার করত। যেমন বখতিয়ার উদ্দিন নামের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে ঘর থেকে পাকড়াও করে ধরে নিয়ে যাওয়া, সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা, প্রায় ৫১ লাখ টাকা ও স্বর্ণ লুট করে নেয়ার কাজ প্রদীপ ও মহিলা ওসি মর্জিনা আক্তার যৌথভাবে সম্পাদন করেছে। পরবর্তীতে বখতিয়ারকে গুলি করে হত্যা করে। এসব হত্যার পিছনে কক্সবাজারের এসপির যোগসাজশ রয়েছে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।

কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘কষ্ট’ নামের বাংলা সিনেমার কথা মনে পড়ে প্রদীপের আচরণে। ‘কষ্ট’ সিনেমার নায়ক মান্না ছোটবেলায় দেখে তার মা টাকার জন্য পর পুরুষের সাথে সেক্স করে। এ দৃশ্য জানালার কাঁচের ভেতর দিয়ে দেখতে পেয়ে পরবর্তীতে মান্না টাকার জন্য আজকের প্রদীপের মত বদ হয়ে উঠে। আসলে কি প্রদীপ তার মায়ের এমন কিছু চিত্র দেখেছিল নাকি? না হলে টাকার জন্য ১৮৬টি কথিত বন্দুকযুদ্ধ করে? দুএকজন ছাড়া বাকিরা সাধারন নিরীহ মানুষ।

পুলিশ হলে কত টাকা দরকার পরিবার সামলাতে? একটা পরিবার সুন্দর ভাবে চলতে কত টাকা লাগে? কত ফ্ল্যাট ও প্লট লাগে? লোভটা কেবল প্রদীপের বেলায়ই নয় এরকম বহু প্রদীপ রয়েছে যারা টাকার জন্য আরো নিচে নামতে পারে। বিবেককে বিসর্জন দিতে পারে। এনিয়ে সরকারি কাজে নিযুক্ত অসৎ কর্মচারীরা এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে কি?

টেকনাফে একজন মেজর হত্যার মধ্য দিয়ে ওসি প্রদীপের মানুষ হত্যা, টাকা ও স্বর্ণ লুট করে সম্পদের পাহাড় করার চিত্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে উন্মোচন হয়েছে। এরকম ওসি-এসআই ও পুলিশ সুপার বাংলাদেশে আর নাই? এ ধরনের বদমাশদের প্রটোকল দেয়ার জন্য অসভ্য-বর্বর সাবেক এসপি আল্লাহ বখস চৌধুরী কি আর নাই? তাদের মুখোশ খুলে দেয়ার সাহস কে দেখাবে?

ওসি প্রদীপ কোনো মাদক কারবারিকে হত্যা করেনি, যতগুলো হত্যা করেছে সবাই নিরীহ, টাকা দিতে পারেনি বা দিতে দেরি হয়েছে, আবার টাকা হাতে পেলেও পরে তার অসৎ জন্মদোষে যুক্ত নোংরা চেহারা খুলে যাবার ভয়েও হত্যা করেছে। মাদক কারবারীদের সে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের কাছ হতে এক লাখ টাকা থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেছে ওই এলাকায় বসবাসরত চলচ্চিত্রের খলনায়ক ইলিয়াস কোবরা!

নিরীহ মানুষ, বিদেশ ফেরত কিবা ব্যবসায়ীদের তথা অর্থবিত্ত দেখে ইলিয়াস কোবরা তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষদের ভয় দেখাতো! ক্রসফায়ারের তালিকায় তোমার নাম আছে অথবা মাদক কারবারি-চোরাচালানির তালিকায় তোমার নাম আছে এসব ভয় দেখিয়ে তাদের ফুঁসলিয়ে ওসির সাথে মিট করিয়ে দেয়ার কথা বলে চাপ দিয়ে ধরে যতদূর নেয়া যায় টাকা আদায় করত ওসি প্রদীপ ও ইলিয়াস কোবরা। এ টাকা হতে ১লাখ টাকা থেকে হতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উপঢৌকন গ্রহণ করত কোবরা। অপরাধীদের সাথে আপোষ নয়।

প্রদীপ বিএনপির জন্ম।সে আওয়ামীলীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য হোক আর নিজে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার জন্য মানুষ খুন করেছে। তাকে এক চুলও ছাড় নয়। তার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে নেয়া হোক। প্রতিটি খুনের মামলা দিয়ে সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনা হোক।তার অপরাধের শাস্তি দেখে যেন অন্যরা সংশোধন হয়ে যায়। কতবড় জঘন্য নিষ্ঠুর পাষাণ হলে একজন মানুষকে গুলি করার পরেও যেন চিৎকার করতে না পারে মুখে বুট জুতো দিয়ে লাথি মেরে চেপে ধরে প্রদীপের মতো জানোয়ার।

আমরা এমন এক রাষ্ট্রের নাগরিক যেখানে পুলিশ গায়ে পড়ে ঝগড়া করবে, মারবে, চড়-থাপ্পড় দেবে, মা-বোন তুলে অশ্লীল ভাষায় গালি দিবে, ঘর থেকে তুলে নিয়ে মামলায় জড়িয়ে দেবে, মাদক আছে বলে ঘর তল্লাশি করবে করবে, চাঁদাবাজি করবে, আইনের আশ্বাসের বিনিময়ে সর্বস্ব হাতাবে, সম্মানিত ব্যক্তিকে মুহূর্তেই দাগী সন্ত্রাসী বানিয়ে ফেলবে, খুন করে বলবে বন্দুকযুদ্ধ(?), উল্টো পরিবারের সদস্যদেরকে মামলায় আসামি করবে, অস্ত্র ইয়াবা নিজেরা সংগ্রহ করে নিরীহদের ফাঁসাবে,যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করবে! এসবের প্রতিবাদ তো দূরে থাক টু শব্দ করতে পারব না।

আহারে দেশ! আহারে মাটি! আহারে মানুষ! কি এক ভাগ্য নিয়ে জন্মেছি, মুখ খোলার সাহস যোগ্যতা কোনটাই নেই এ বাংলা ভাষাভাষীদের। তাহলে স্বাধীন বলে যে আত্মবিলাপ করি তা কিসের স্বাধীনতা? বুঝতে পেরেছি তা কেবলই পুলিশের বা সরকারি কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের!

আমরা কি আইন পাবো না? বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা পাবো না? বিবেকবান মানুষের সাহায্য পাবো না? আইনের সঠিক প্রয়োগ পাবো না? বাংলাদেশ বলে যে গর্ব করি তা কিসের জন্য? এর জবাব কে দিতে পারবেন?

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি আইন প্রয়োগ করতে পারবেন? (১). সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে হেনস্থা নয়। (২).কারো বাড়িতে বিকেল পাঁচটা থেকে পরদিন নয়টা পর্যন্ত অভিযান নয়। যদি অভিযান করতে হয় তাহলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকতে হবে। তাও মামলার বা অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কাগজপত্রসহ।(৩).যাকে তাকে ইয়াবা বা অস্ত্র বা ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় আসামি নয়। (৪). আদালতের ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার নয়।(৫). মামলা কিবা প্রমাণিত আসামি ছাড়া হ্যান্ডকাফ পরানো নয়। (৬). পুলিশের কার্যক্ষমতা কি কি তা সিটিজেন চার্টার করে থানার সামনে টাঙিয়ে দিতে হবে! তাহলে বোধ করি কিছুটা হলেও শান্তিপ্রিয় ভদ্র নিরীহ বাঙালি মানুষগুলো রক্ষা পাবে এইসব প্রদীপ তথা ঘাড়েচাপা শয়তানের হাত হতে।

অস্ত্র-গুলি উদ্ধার হলে এসপির নির্দেশে মিডিয়ার সামনে আসামি ও আলামত প্রদর্শন করে তৎক্ষণাৎ এসপির কাছে জমা বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে দিতে হবে ওইসব আলামতসমূহ। নইলে পরবর্তীতে একই জিনিস দিয়ে নিরীহ ব্যক্তিকে ফাঁসানো হয়।

এস আই সোর্সের মাধ্যমে মাদক সংগ্রহ করে ডিউটিতে বের হয়। পথে নিরীহদের ধরে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে সঙ্গে থাকা ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়।

যদি এসব অপকর্ম, নষ্টামি রোধ করা যায় তাহলে নিরীহ সাধারণ মানুষ অনেকটাই হয়রানি হওয়ার হাত থেকে বাঁচবে।

আইন জনগণের সামনে আনতে হবে, যাতে করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত, প্রমাণিত খুনি, দাগি, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী মোটকথা অপরাধীরা যেন কমপক্ষে পাঁচ বছরের আগে জেল থেকে জামিন না পায়। বিশেষ করে খুনি ছাড়া বাকিরা এক দেড় মাসের মধ্যেই জামিনে এসে আবারো অপরাধের সাথে জড়িয়ে যায়।

আরেকটা আইন করা জরুরী হয়ে পড়েছে, (১). পুলিশ কাউকে হয়রানি করছে, ভুলভাল তথ্য দিয়ে মামলায় জড়িয়েছে, হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা হাতিয়েছে চাঁদাবাজি করছে কিবা জানোয়ার হয়ে মানুষ খুন করে বন্দুকযুদ্ধ বলে চালিয়ে দিয়েছে, এরকম সুনির্দিষ্ট তথ্যে পুলিশ কিবা সরকারী কাজে নিযুক্ত কর্মচারীর প্রথমেই চাকরিচ্যুত করে দ্বিতীয়ত সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তৃতীয়ত তাকে আজীবন কারাগারে নিক্ষেপ করতে হবে। তার পক্ষে বাংলাদেশের কোনো আইনজীবী যাতে না দাঁড়ায় সে ব্যবস্থাও করতে হবে। তাহলে আর এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে না কোনা পুলিশ,আর্মী, র‍্যাব, বিজিবি, গোয়েন্দাদের কেউ কিবা সরকারি কাজে নিযুক্ত জনগণের কর্মচারী।

এরকম কঠিন পরিস্থিতির যেনো পূণারাবৃত্তি না ঘটে বা এধরনের লোমহর্ষক ঘটনা রোধ করা যায় সেরকম আইন কি বাংলাদেশের পক্ষে করা সম্ভব? যদি সম্ভব না হয় তাহলে ওসি প্রদীপের মত বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বহু ওসি-এসপি ডিসি কিবা সরকারি দপ্তরে বহু জারজ প্রদীপের জন্ম হবে!

এরকম জারজ সন্তানেরা আমাদের কোণঠাসা করে রাখুক তা আমরা বাংলাদেশের নিরীহ শান্তিপ্রিয় জনগণ কখনোই চাই না। এরকম কঠিন পরিস্থিতির মুখে বাংলাদেশ থাকুক, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে প্রশ্ন উঠুক, তা বাংলা ভাষাভাষী হিসেবে সত্যই লজ্জাজনক। তবে ব্যক্তি অপরাধ বাহিনী নিবে না এটাই নিয়ম। ব্যক্তি লোভ, অপরাধ ব্যক্তির ঘাড়ে দিয়েই বিচার শুরু করুন।আইনের লোক হয়ে বেআইনী কাজ করলে দ্বিগুণ শাস্তির ব্যবস্থা করুন। আর তা যেনো দেখে অন্য অসৎ লোকগুলো দ্রুত সংশোধন হয়ে যায়।

সরকারি কাজে নিযুক্ত জনগণের কর্মচারী যেন জনগণের সাথে চড়াও হয়ে কথা না বলতে পারে, রাগ দেখাতে না পারে, টাকার জন্য ফাইলপত্র ঠেকাতে না পারে, কিবা কোনরকম অসৎ উপায়ে জনগণকে ঠকাতে না পারে সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।

আমরা প্রায় ২০ কোটি বাঙালি আশা করি এসআই লিয়াকত, ওসি প্রদীপ ও কক্সবাজারের এসপিসহ বিশ্বাসঘাতক ইলিয়াস কোবরা ও আইনি সহায়তা দানকারী সেই পরামর্শদাতা আল্লাহ বখসকেও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে সরকার। সে অপেক্ষায় রইলাম।

লেখক: কবি প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক।
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল।

এএ

আপনার মতামত লিখুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা অফিস

প্রধান সম্পাদক : সাইফুল্লাহ সাদির

১৬৩/৪ দেওয়ান পাড়া , ভাষানটেক , ঢাকা-১২০৬

+৮৮ ০১৭৪৫৪১১১৮৭ , +৮৮ ০১৭১২৪১১৩৭৮

jonokonthonews@gmail.com

কুষ্টিয়া অফিস

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সেলিম তাক্কু

আল- আমীন সুপার মার্কেট, ২য় তলা, পূর্ব মজুমপুর, কুষ্টিয়া,

+৮৮ ০১৭৪৫৪১১১৮৭ , +৮৮ ০১৭১২৪১১৩৭৮

jonokonthonews@gmail.com

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জনকণ্ঠ নিউজ.কম
Powered By U6HOST