রায়পুরে রাজনীতিতে ধাক্কা! স্বচ্ছ ব্যক্তির খোঁজে নেত্রী নিজে | অ আ আবীর আকাশ
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২১, ১:১১ অপরাহ্ণ

 

স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তির খোঁজে ক্রমশ রাজনীতির পটপরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দুর্নীতি ও অসৎ চরিত্রের কারণে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র-জুনিয়র বলে কাউকেই বিবেচনায় আনা হচ্ছে না। রাজনীতির দোহাই দিয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতানো, দেশে-বিদেশে আলিসান বাড়ী-গাড়ির মালিক বনে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তেমনি দেশব্যাপী রাজনীতিকে পুঁজি হিসেবে গ্রহণ করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, উন্নয়নের নামে চুরি, জাল সনদে সুবিধা গ্রহণ, বিভিন্ন খাত সৃষ্টি করে জনগণের টাকার হরিলুট করা, নারী নিয়ে অপকর্মে জড়িয়ে যাওয়া অসৎ চরিত্রের ব্যক্তিরা দলের জন্য যতোই ত্যাগ তিতিক্ষা স্বীকার করুক না কেন, যতোই সিনিয়র হোক না কেন তারা সময়ের ব্যবধানে দল থেকে আলতোভাবে ছিটকে পড়তে শুরু করছে। ইতোমধ্যে আমরা তা পরিলক্ষণ করতে শুরু করেছি।

পৌরসভা নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে বিরাট ধাক্কা এসেছে। স্থানীয় রাজনীতির সাথে বহু ত্যাগী নেতা-কর্মী আছেন। ২০০৮ সালে যখন আওয়ামী লীগ ‘সরকারের’ ক্ষমতা হস্তগত করে সে থেকে রায়পুরের আওয়ামী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা (শুধু রায়পুর নয় জেলার সকল উপজেলার এমনকি পুরোদেশের আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় নেতা কর্মী পর্যন্ত অবৈধ উপার্জনের দিকে ঝুঁকে পড়ে) কালো টাকার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি ম্রীয় হয়ে যায়। ইউনিয়নের নির্বাচন থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে। সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করলে নিশ্চিত ভরাডুবি হবে ভেবে নেত্রী- ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো’ বাক্যে আড়ষ্ট হয়ে অসৎ, দুশ্চরিত্র, চোর, বাটপার, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ,টেন্ডারবাজ,চাঁদাবাজ,মাদকারবারী ব্যক্তিদের মুখের উপর ‘স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন’ ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়ে ‘কঠিন শিক্ষা স্বরুপ’ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধু আওয়ামী লীগে নয় বিএনপিতেও এমন অসৎ খারাপ দুশ্চরিত্র ব্যক্তি গেড়ে আছে। তারাও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ক্রমশ দল থেকে ছিটকে পড়ার সময় হয়ে এসেছে। যদিও বিএনপি রাজনীতি এখন বড় দুঃসময়ের ভেতর দিয়ে চলছে। তাদের সৃষ্ট দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির কারণে তাদের দলের ইমেজ নষ্ট হয়েছিল। এখন ক্ষমতা নেই, দুর্নীতিও নেই। তবে বিভিন্ন অপরাধে মামলা খেয়ে বহু নেতাকর্মী জেলহাজতে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান, বিচক্ষণ তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পূর্ণ, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বাংলাদেশ উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা ও বাস্তবায়নকারিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই দেশব্যাপী অসৎ অপদার্থদের মুখে চপেটাঘাত করে স্বচ্ছ ইমেজ সম্পন্ন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। তিনি নিশ্চয়ই কারো প্ররোচনায়, সুপারিশে বা অনুরোধে কাউকে মনোনয়ন দেন না। এটাই সফল সরকার হিসেবে শেখ হাসিনার ‘দুর্নীতিমুক্ত কাঙ্খিত বাংলাদেশ’ গড়ার একটা সূত্র হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।

এমনিভাবে বিএনপিকেও ভাবতে হবে। খালেদা জিয়া যদি পরনির্ভর না হয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসৎ জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে ‘স্বচ্ছ ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন’ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেন তাহলে বিএনপির রাজনীতিও সফলতার দিকে এগোবে।

বলতে চাই ‘সাধু সাবধান’! অসৎ নারী লোভী, চোর-ডাকাত, সন্ত্রাসীপনা ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে যাওয়ার সময় আছে। বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। অসৎ চিন্তা ঝেড়ে ফেলে ভালো কাজে নিস্বার্থ ভাবে এগিয়ে আসার সময় পর্যাপ্ত রয়েছে। ঘুষ-দুর্নীতি, চাটুকারিতা, হঠকারিতা, মাদক সেবন ও বিক্রি করা, ঠিকাদারির নামে উন্নয়নে চুরি করা, বিভিন্ন খাত সৃষ্টি করে জনগণের টাকা লুট করা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজি করা, জমি জবরদখল করা ইত্যাদি অপকর্ম থেকে বেরিয়ে এসে -‘ডাল-ভাতে সুখের জীবন’ গড়ার স্বপ্নে সাধারণ হও। জনগণ কিছুই চায় না ভালো মানুষকে ভোটের মাধ্যমে মনোনীত করতে চায়।

নির্বাচন কমিশনার যদি একবার ব্যালট পেপারে ব্যক্তির নামের পাশে মার্কা বা প্রতীক দিয়ে’হ্যাঁ ভোট, না ভোট ও মন্তব্য কলাম’ রাখতো তাহলে জনগণ তাদের রায় স্বাধীনভাবে দিতে পারতো। তখন রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও ভয়ে আঁতকে উঠতো কি হবে নির্বাচনে!

ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নামের পাশে মার্কা দিয়ে- হ্যাঁ ভোট, না ভোট, মন্তব্য কলাম রেখে স্বচ্ছ, সন্ত্রাস মুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। তখন হয়তো জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবে চরম আনন্দের মাধ্যমে।

***

লেখক: কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক
‘লন্ডন টাইমস’ গ্রেটার নোয়াখালী করেসপন্ডেন্ট।
abirnewsroom@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা অফিস

প্রধান সম্পাদক : সাইফুল্লাহ সাদির

১৬৩/৪ দেওয়ান পাড়া , ভাষানটেক , ঢাকা-১২০৬

+৮৮ ০১৭৪৫৪১১১৮৭ , +৮৮ ০১৭১২৪১১৩৭৮

jonokonthonews@gmail.com

কুষ্টিয়া অফিস

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সেলিম তাক্কু

আল- আমীন সুপার মার্কেট, ২য় তলা, পূর্ব মজুমপুর, কুষ্টিয়া,

+৮৮ ০১৭৪৫৪১১১৮৭ , +৮৮ ০১৭১২৪১১৩৭৮

jonokonthonews@gmail.com

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জনকণ্ঠ নিউজ.কম
Powered By U6HOST