উৎকণ্ঠার অবসান রংপুরে ছাত্রলীগের সমাবেশ স্থগিত, বিএনপি করবে ভিন্ন মাঠে

ছবি সংগ্রহীত
বিএনপি ও ছাত্রলীগের সমাবেশ ঘিরে রংপুরে উৎকণ্ঠার অবসান হয়েছে। নগরীর জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশ দ্বিতীয় বারের মতো স্থগিত করেছে ছাত্রলীগ। আগামী বৃহস্পতিবার এ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এদিকে শনিবার সমাবেশের জন্য বিএনপিকেও এই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ কারণে দলটি সমাবেশ করবে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। মঙ্গলবার দুই সংগঠনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাব্বির আহমেদ জানান, জিলা স্কুলে ক্লাস-পরীক্ষা চলমান রয়েছে। বৃহস্পতিবার স্কুল খোলা। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তাদের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১৯ নভেম্বর সমাবেশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন স্কুল বন্ধ থাকবে। তাই সমাবেশ হলে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়ে দেবে।

গত রোববার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রংপুর জিলা স্কুলে সমাবেশের তথ্য জানানো হয়েছিল। এর এক সপ্তাহ আগে রংপুরের পীরগঞ্জে সমাবেশটি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছিল।

স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে বিএনপি তাদের পূর্বনির্ধারিত বিভাগীয় সমাবেশস্থল বদল করেছে। জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশ করতে চেয়েছিল দলটি। কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করা হবে বলে রংপুর মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে শহরের প্রবেশপথগুলোসহ বিভিন্ন স্থানে তোরণ বানানো শুরু হয়েছে। দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের হাজিরহাট, রংপুর-গঙ্গাচড়া উপজেলা সড়কের বুড়িরহাট, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মডার্ন মোড়, রংপুর-কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়কের সাতমাথা এলাকাতেও চলছে তোরণ বানানোর কাজ। শতাধিক ছোট-বড় তোরণ থাকবে বলে জানিয়েছেন মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান।

মহানগর কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী বলেছেন, সব বাধা মোকাবিলা করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার সভামঞ্চের কাজ শুরু করা হবে। সমাবেশ কেন্দ্র করে প্রথমে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকলেও এখন সবকিছু ভালো মনে হচ্ছে। বিএনপি লক্ষাধিক মানুষের সমাগম করতে চায়।

রংপুরে বিএনপি ও ছাত্রলীগের ডাকা সমাবেশ কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। বিএনপি নেতারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁদের সমাবেশে বাধা দেওয়া হলে পুরো রংপুর অচল করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি নৈরাজ্য করলে প্রতিরোধ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *