‘গাদ্দাফির পিচ তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাও, বাবরকে ধুয়ে দিলেন আকরাম

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দুইটি ম্যাচেই হেরে সেমিফাইনালের আশা ফিকে হয়ে গেছে পাকিস্তানের। বাবর আজমদের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে সমালোচনার তীর। এবার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরাম ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বাবর আজমের প্রতি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার পিচে খেলতে না পারলে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের পিচ তুলে যাও।

পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলে ওয়াসিম আকরাম বলেন, আমরা সবাই জানি, খেলায় হারজিত থাকবেই। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে, নিজের হাতেও অনেক কিছুই থাকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় সম্পর্কে এক বছর আগে থেকেই আমরা জানতাম। দলে একজন ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার দরকার। কিন্তু কেউই গুরুত্ব দেয়নি। এর জন্য অধিনায়ক বাবর আজম ও প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ

ওয়াসিমকে দায়িত্ব নিতে হবে। তারা অলরাউন্ডার আমির জামালকে ইংল্যান্ড সিরিজে নিয়ে গেলো অথচ, অস্ট্রেলিয়ায় তার জায়গা হলো না।অপরদিকে, বাবরের অধিনায়কত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়াসিম আকরাম। তিনি বলেছেন, বাবর আজম দলের জন্য নিজের জায়গা ছাড়বে না। তাকে অধিনায়ক আর নেতার মাঝে পার্থক্যটা বুঝতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার পিচে খেলতে হবে, এটা মাথায় নিয়েই দল সাজাতে হতো বাবরকে। সে বলছে, এখানকার পিচে খেলা বেশ কঠিন। তাহলে, বিশ্বকাপে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে এসো। তারপর সেখানে খেলো। আরো পড়ুনঃ শিরোনাম দেখে চোখ কপালে উঠতে পারে! বিস্মিত হওয়ারই কথা। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ১৯ ম্যাচ খেলে ফেলেছে, সেখানে অভিষেক কী করে হয়? দুই দল ১৯টি টি-টোয়েন্টি খেললেও বিশ্বকাপের ময়দানে এখনও সাক্ষাৎ হয়নি। রবিবার সকাল ৯টায় ব্রিসবেনের গ্যাবায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও

তাদের বর্তমান পারফরম্যান্স শঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্বকাপের ‘অভিষেক ম্যাচে’ তাই জিম্বাবুয়েকে হারানো নিয়ে দুঃচিন্তায় কাটাতে হচ্ছে সাকিব আল হাসানের দলকে। দুই দলের লড়াই সরাসরি দেখা যাবে গাজী টেলিভিশন ও টি-স্পোর্টসে। ২০০৭ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে। তখন থেকেই বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটের বড়

আসরেও তাদের দেখা মেলেনি। এবার অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষা দূর হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুই দল ১৯ বার মুখোমুখি হওয়ার পর বিশ্বকাপে প্রথমবার লড়তে যাচ্ছে। শক্তিমত্তার বিচারে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে অনেকদূর এগিয়ে জিম্বাবুয়ে। অথচ এক বছর আগেও জিম্বাবুয়েকে ঘরে-বাইরে যে কোনও কন্ডিশনে বলে-কয়ে হারতো লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। কিন্তু এখন চিত্রটা পাল্টেছে। চোখে চোখ রেখে কথা বলে শিখে গেছে সিকান্দার রাজারা! হারারেতে গত জুলাই-আগস্টে তিন ম্যাচের সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের আগে দুই দলের ড্রেসিংরুমে দুই রকম আবহ। পার্থে পাকিস্তানকে শেষ বলে হারিয়ে দারুণ সময় কাটাচ্ছে জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে কোনোরকমে জয় পাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খেয়েছে সাকিব আল হাসানের দল। দুই ম্যাচেই ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ প্রত্যাশিত ছিলো না। এমন অবস্থায় পুরো দলই আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের চিত্র পুরো উল্টো। পারফরম্যান্সে সাফল্য তুলে নিচ্ছে গোটা দল। ফলে গ্যাবাতে জিম্বাবুয়েকে হারাতে ভালো ক্রিকেট খেললেই হবে না, স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণও করতে হবে। নয়তো জিম্বাবুয়েই শেষ হাসি হাসবে।

বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট শ্রীধরন শ্রীরামও জিম্বাবুয়েকে ভালো দল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আমরা জিম্বাবুয়েকে সমীহ করছি। তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ওই ম্যাচের প্রতিটি বল দেখেছি। যেভাবে তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললো এটা অবিশ্বাস্য। পুরো কৃতিত্ব তাদের দিতে হবে, পুরো সম্মানও।’

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রাচীন ভেন্যু ব্রিসবেনের গ্যাবায় দুই দলের লড়াই শুরু হবে। এই মাঠে প্রথম টি-টোয়েন্টি হয়েছিল ২০০৬ সালে। পেসারদের স্বর্গ রাজ্য বলে খ্যাত এই মাঠে টি-টোয়েন্টিও হয়েছে মাত্র ছয়টি। বিশ্বকাপে এখনও একটি ম্যাচ হয়নি। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ব্রিসবেন পর্ব। বাংলাদেশের মতো জিম্বাবুয়ে প্রথমবার খেলতে নামবে এই ভেন্যুতে। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে শেষ হাসি হেসেছিল বাংলাদেশ। রবিবার দুই দলের বিশ্বকাপের ‘অভিষেক’ ম্যাচেও কি শেষ হাসি হাসবে বাংলাদেশ? প্রশ্নটা সময়ের হাতেই তোলা থাকুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *